ধর্ষণ ও বিচার

0
76

এস, এম, আজিজুল হক: গণমাধ্যমের বদৌলতে জাতী জানতে পারছে-দেশে ধর্ষণ মহামারী আকার ধারণ করেছে। গ্রেফতারের খবরও আসছে অনেক। তবুও থামছে না নরপশুদের তান্ডব। মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, স্কুল কলেজের শিক্ষক,সরকারী বেসরকারী চাকুরীজীবিসহ প্রায় সব শ্রেণী পেশার মানুষ এই ঘৃন্য অপরাধের সাথে জড়িত। কিশোর থেকে বৃদ্ধরাও মেতে উঠেছে এই মহোৎসবে। কোলের শিশু থেকে অশতিপর বৃদ্ধাও রেহাই পাচ্ছে না এ সব নরপিচাশদের হাত থেকে। মানসিক ভাবে বিকারগ্রস্থ হয়ে পড়ছে আমাদের দেশের মানুষ।
এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনের বদৌলতে নীল ছবিতে আশক্ত হয়ে পড়ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত। দিনের অনেকটা সময় ব্যয় করে এই এ্যান্ড্রয়েড ফোনের নীল ছবির পৃষ্ঠায়। ফলে তারা বিকৃত যৌন মানসিকতায় আক্রান্ত হচ্ছে।
অপর দিকে এই ঘৃন্য অপরাধের দৃশ্যমান ও নজির সৃষ্টিকারী কোন বিচার না হওয়ায় ধর্ষকদের সাহস দিন দিন বেড়েই চলছে।
ধর্ষণ সংক্রান্ত বিচার ব্যবস্থায় রয়েছে দীর্ঘ সুত্রতার অবকাশ। সে দিকটাকে পুনর্বিন্যাস ও আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবী। তাছাড়া বিচার বিভাগ এখনো রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত নয়। তাছাড়া এক জন ধর্ষিতা বিচার চাইতে গেলে বিচারের প্রতিটি স্তরে তাকে যৌন হেনেস্তার শিকার হতে হয়।
ধর্ষণের সাজার দিকটাও পুনঃভাবা দরকার। বিচারে এক জন ধর্ষকের মৃত্যু দন্ড হলে মুলত সে বেঁচেই গেল। এই আধুনিক ও বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার যুগে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে ধর্ষককে চির যৌনহীন করে দিলে ধর্ষক এক সময় তার মৃত্যুদন্ড নিজেই কার্যকর করে নেবে।
ইহুদী নিধন পুরোপুরি কার্যকর না করে হিটলার কিছু ইহুদীর কান কেটে ছেড়ে দিয়েছিল যাতে অন্যরা চিনতে পারে যে এরাই সভ্যতা বিনষ্টকারী। ধর্ষকদেরও এমন ধরনের শারিরীক চিহ্ন করে দেয়া, যাতে অন্যরা সহজেই তাকে ধর্ষণকরী সাজা প্রাপ্ত হিসেবে শনাক্ত করতে পারে।
সর্বপোরি বলা যায় আইনের কঠোর বাস্তবায়নের অভাবে আমানবিকতার গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে। মহা সড়কে গাড়ী হর্ণ বাঁজালে বদ্ধ পাগলও সড়কের পাশে চলে যায়। ধর্ষণকারীরা তো আর পাগল নয়। তাদের স্পর্ধার মুল কারণ শুধু মানবিক অবক্ষয় নয়-আইনের দুর্বলতাও অনেক দায়ী।
বিভিন্ন হেফজো খানার শিশু ছেলেরা তাদের হুজুর দ্বারা প্রায় প্রতি নিয়ত বলাৎকারের শিকার হচ্ছে। তার কয়টির খবর প্রকাশ পাচ্ছে? এসব ঘটনায় অপরাপর ধর্মীয় নেতারা চুপ থাকে কেন? কোন এক অমুসলিম দেশের কোন এক জন আমাদের ধর্ম নিয়ে সামান্য কটুক্তি করলে বায়তুল মোকাররম চত্তরে কথিত হুজুরদের নাচন কুদন তান্ডব শুরু হয়ে যায়, অথচ ধর্ষক হুজুরদের বিরুদ্ধে তাদের মুখে রা পর্যন্ত নেই। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে আসে-ডাল মে কুঁচ কালা হ্যায়?
আমাদের দেশে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয় রয়েছে। সে মন্ত্রনালয়ও ধর্ষণের ব্যপারে কার্যত কোন কার্যকর ভুমিকা পালন করছে না।
আরো লজ্জার বিষয় হলো, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও সংসদের স্পিকার নারী। অথচ সেই দেশে ঠেকানো যাচ্ছেনা ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ। এ লজ্জা কার?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here